শনিবার ১৬ মে ২০২৬ - ১০:৫৪
ইরানে ইসরাইল-আমেরিকার হামলায় বিধ্বস্ত জনজীবন, পশ্চিমবঙ্গের প্রবাসী ছাত্রদের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ

ভাঙেনি ইরানের মানুষ, সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে অব্যাহত প্রতিরোধ; ব্যতিক্রমী মানবিকতার নজির ভারতের ছাত্রদের।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, কোম/কলকাতা, ১৬ মে: ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম নির্মম আক্রমণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশটি। আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে স্কুল, হাসপাতাল, এমনকি সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি। নিশানা বানানো হয়েছে জনবহুল আবাসিক এলাকাগুলোকেও। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে, চিকিৎসা কেন্দ্র চূর্ণবিচূর্ণ, শিশু-বৃদ্ধ-নারী নির্বিশেষে বহু পরিবার গৃহহীন।

তবে সব বাধা ও ক্ষয়ক্ষতির পরও ইরানের মানুষ ভাঙেনি। তারা তাদের সরকার ও প্রতিরোধ বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে শত্রুদের মোকাবিলা করে যাচ্ছে। হাসপাতাল ধ্বংস হয়েছে, কিন্তু রাস্তায় বসে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাড়ি নেই, কিন্তু তবু একসঙ্গে রাস্তায় খাবারের আয়োজন হচ্ছে। এ যেন এক আত্মত্যাগ ও সংহতির অনন্য দৃষ্টান্ত।

পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রদের অসামান্য উদ্যোগ

এই সংকট মুহূর্তে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানবিক ব্যক্তি ও সংগঠন। তার মধ্যে বিশেষভাবে প্রশংসিত হচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বসবাসকারী ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের (ইরানের বিভিন্ন ধর্মীয় কেন্দ্রের প্রবাসী ছাত্র) চেষ্টা।

তারা সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্য স্টল স্থাপন করেছে, যেখানে বিনামূল্যে গরম খাবার, শুকনো খাদ্যসামগ্রী ও পানি বিতরণ করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই স্টলগুলো তেহরান, কোম ও মাশহাদের বিভিন্ন জায়গায় স্থাপিত হয়েছে।

একজন ছাত্র উদ্যোক্তা বলেন:

“আমরা এখানে পড়তে এসেছি। ইরান আমাদের দ্বিতীয় ঘর। যখন দেখলাম স্কুল, হাসপাতালের ওপর হামলা হচ্ছে, শিশুরা আহত হচ্ছে, তখন আর চুপ করে থাকতে পারিনি। আমাদের সামর্থ্য সীমিত, কিন্তু যতটুকু সম্ভব খাবার ও সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা ইরানের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ, তারা কখনো আমাদের নিরাশ করে না।”

আহত ও গৃহহীনদের পাশে ছাত্রসমাজ

নজরবন্দি এই ত্রাণ কার্যক্রমে শুধু ইরানের নাগরিক নন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক ও ভারতের অন্যান্য রাজ্যের ছাত্ররাও সম্পৃক্ত হয়েছেন। খাবার বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ত্রাণ তহবিল সংগ্রহ, প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং শিশুদের জন্য অস্থায়ী পড়ার আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইরানে স্কুল-হাসপাতাল ধ্বংসের ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, যুদ্ধের নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাকেন্দ্র সুরক্ষিত রাখা বাধ্যতামূলক।

তবে বিমান হামলার মধ্যেও ইরানের জনগণের প্রতিরোধ ও ভারতীয় ছাত্রদের মানবিক উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের প্রবাসী ছাত্রদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ মুসলিম বিশ্বে আলোচিত হচ্ছে।

ইরানের উপর যুদ্ধের ছায়া এখন অব্যহত। কিন্তু সেখানেই পশ্চিমবঙ্গের কয়েকজন তরুণ ছাত্র প্রমাণ করছে-অন্ধকার যত গভীর হোক, মানবতার মশাল কখনো নেভে না।

খাবারের প্লেট, এক গ্লাস ঠান্ডা পানি, এক মুঠো সহমর্মিতা-আজ ইরানের মানুষের কাছে তা শুধু খাদ্য নয়, বরং এক অস্ত্র, এক শক্তি যা বলে-“তোমরা একা নও, সমগ্র বিশ্বের সৎ মানুষ তোমাদের পাশে।”

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha